শেরপুর সদর হাসপাতালে অসুস্থ মা–বাবাকে ভর্তি করিয়ে রেখে তিন ছেলের চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় চরম অবহেলার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন মনোয়ারা বেগম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মনোয়ারা বেগম ও তাঁর স্বামীকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর তাঁদের তিন ছেলে সেখান থেকে চলে যান এবং পরে আর কোনো খোঁজখবর নেননি। এমনকি চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্বও তারা এড়িয়ে যান। এতে করে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাতে হয় বৃদ্ধ এই দম্পতিকে।
একপর্যায়ে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আজকের তারুণ্য” এগিয়ে আসে। সংগঠনের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ দম্পতির দেখভাল এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
তবে সব চেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোয়ারা বেগম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর পর তাঁর কাফন, দাফনসহ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রমে সহযোগিতা করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আজকের তারুণ্য”। সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে দুঃখ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, একজন মা সারাজীবন কষ্ট করে সন্তানদের বড় করেন, অথচ জীবনের শেষ সময়ে সন্তানের অবহেলার শিকার হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আজকের তারুণ্য” মরহুমা মনোয়ারা বেগমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।