দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। ক্ষেত থেকেই পাইকাররা প্রতিকেজি ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় আলু কিনে নিচ্ছেন, ফলে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে এসব আলু।
উপজেলা কৃষি দপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ১২০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের চাষ হয়েছে। আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আলুচাষ শুরু করা হয়, যা মাত্র ৫৫–৬০ দিনের মধ্যেই উত্তোলন করে বিক্রি করা সম্ভব। দ্রুত উৎপাদন ও বেশি লাভের কারণে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
সোমবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে আলু তুলছেন। কেউ কোদাল দিয়ে আলুর বেড আলগা করছেন, কেউ আবার বস্তায় ভরছেন নতুন আলু।
রাজারামপুরের কৃষক বাবলু সরকার জানান, সাড়ে চার বিঘা জমিতে ক্যারেজ জাতের আলু চাষ করেছেন তিনি। বীজ আলুর দাম ছিল ১৫–১৭ টাকা কেজি। ৫৯ দিনেই আলু তুলে ৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারছেন। বাজারদর এমন থাকলে গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে জানান তিনি।
আমডুঙ্গীহাট গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, সাড়ে সাত বিঘা জমিতে চাষ করা আলু পাইকাররা ৬৫ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন। বীজের দাম কম থাকায় উৎপাদন ব্যয়ও কম হয়েছে। সামান্য আবহাওয়ার ক্ষতি হলেও লোকসান হবে না বলে আশা তার।
গঙ্গপ্রসাদ গ্রামের আক্তারুল ইসলাম বলেন, কিছু ক্ষতি হলেও বর্তমানে উত্তোলিত আলু ৬৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। লাভের হিসাব এখনো কষেননি, তবে লোকসান হবে না বলে মনে করছেন।
অন্যদিকে আলুরডাঙ্গা গ্রামের মাঠে পাইকার রবিউল ইসলাম ও মনিছুর রহমান জানান, এ বছর ক্যারেজ জাতের আলু ৬০–৬৫ টাকা দরে কিনছেন তারা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুরো দমে আলু উত্তোলন শুরু হলে প্রতিদিনই ট্রাকে করে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় আলু পাঠানো হবে।
এদিন ফুলবাড়ী পৌরবাজারে পুরাতন আলু বিক্রি হয়েছে ১২–২৫ টাকা কেজিতে। নতুন আলুর দাম ৭০–৮০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, গত বছর এই সময়ে নতুন আলুর কেজি ছিল ১০০–১২০ টাকা। এ বছর পুরাতন আলুর কম দামের প্রভাবে নতুন আলুর দামও তুলনামূলক কম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আগাম আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম থাকায় দাম তুলনামূলক কম হলেও কৃষক লাভবান হচ্ছেন। ফলে আগাম আলুচাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।