ইবাদতে কাটুক রমজানের শেষ দশক, লাইলাতুল কদরের সন্ধানে মুসলমানরা

আজমিরা খানম
প্রকাশ: ২ দিন আগে

দেখতে দেখতে পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দুই দশক শেষ হয়েছে। আজ থেকে শুরু হয়েছে রমজানের শেষ দশক, যা ইবাদত-বন্দেগির দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ সময়। ইসলামি শিক্ষায় এই সময়কে রমজানের শ্রেষ্ঠ অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তই বরকতময় হলেও শেষ দশকের গুরুত্ব অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ এই দশকের কোনো এক রাতে রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। পবিত্র কোরআন মাজিদও এই রাতেই নাজিল হয়েছে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজানের শেষ দশক শুরু হলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইবাদতে আরও বেশি মনোনিবেশ করতেন। তিনি মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও রাত জেগে ইবাদতে উৎসাহিত করতেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, “রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কোমর বেঁধে ইবাদতে লিপ্ত হতেন, রাত জেগে থাকতেন এবং পরিবারের লোকজনকেও জাগিয়ে দিতেন।” (বুখারি ও মুসলিম)।

ইসলামি শিক্ষায় রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি নফল নামাজ, সালাতুত তাহাজ্জুদ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার ও দোয়া করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেক মুসলমান এ সময় মসজিদে ইতিকাফ করে আল্লাহর ইবাদতে সময় কাটান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকের পক্ষে ইতিকাফ করা সম্ভব না হলেও অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়, তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া এবং বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করার চেষ্টা করা উচিত।

এছাড়া রমজানের শেষ দশক ধনীদের জন্য দান-সদকা করা, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও গুরুত্বপূর্ণ সময়।

মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা। তারা বলেন, অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করে ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে রমজানের শেষ দশক অতিবাহিত করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের বাকি সময় ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

error: Content is protected !!