ঈদ ঘিরে ঈশ্বরদীর দর্জি দোকানগুলোতে কাজের চাপ বেড়েছে

মো. হাসান ইসলাম, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দর্জি পাড়া ও কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। পছন্দের নতুন পোশাক তৈরি করতে ক্রেতাদের ভিড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি শ্রমিক ও দোকান মালিকরা।

ঈশ্বরদী শহরের আব্বাস মার্কেট, পুরাতন বাজার, গোপাল সুপার মার্কেট, মনির প্লাজা, জাকের সুপার মার্কেট ও পৌর সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মার্কেটে ছোট-বড় টেইলার্স দোকানগুলোতে চলছে অর্ডার নেওয়া ও পোশাক তৈরির ব্যস্ততা। সেলাই মেশিনের অবিরাম শব্দ আর কারিগরদের নিরলস পরিশ্রমে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

দর্জিরা জানান, শবে বরাতের পর থেকেই অর্ডারের চাপ বাড়তে শুরু করে এবং রমজানের ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত অর্ডার নেওয়া হবে। এরপর শুধুমাত্র ডেলিভারির কাজ চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।

গোপাল সুপার মার্কেটের কয়েকজন টেইলার্স মালিক জানান, ক্রেতারা পছন্দের থ্রি-পিস ও থান কাপড় কিনে দর্জি দোকানে ভিড় করছেন। কাজের চাপ সামলাতে অনেক দোকানে মৌসুমি কারিগরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দাশুড়িয়া বাজারের বিসমিল্লাহ টেইলার্সের মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও অর্ডারের চাপ বেশি। অনেক সময় রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে এবং ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত পোশাক ডেলিভারি দিতে হয়। সবকিছুর দাম বাড়ার প্রভাব মজুরিতেও পড়েছে।

রিয়াদ টেইলার্সের মহাজন জালাল উদ্দিন বলেন, কাপড়ের দাম তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম।

সেলাই মেশিন কর্মী আশিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় দোকানের বিক্রি বাড়লেও শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয় না। একই অভিযোগ করেন কারিগর মো. সবুজ। তিনি বলেন, কাজের চাপ বাড়লেও শ্রমিকদের বেতন বাড়ে না।

লাকি টেইলার্সের মালিক আতিকুল ইসলাম জানান, ঈদের আগে বাড়তি কাজের কারণে মৌসুমি কর্মী নিয়োগ দিতে হয়। এজন্য অন্যান্য সময়ের তুলনায় সেলাইয়ের মজুরি কিছুটা বেশি নিতে হয়।

ক্রেতা রাবেয়া সুলতানা ও লাবনি আক্তার বলেন, কাপড়ের দাম খুব বেশি না বাড়লেও সেলাই খরচ বেড়েছে। তাই অনেকেই এখন রেডিমেড পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন।

ঈশ্বরদী বাজারের মিশুক বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী আজিম হোসেন বলেন, এবার বাজারে উন্নত মানের নতুন ডিজাইনের কাপড় এসেছে। ফলে ক্রেতারা পছন্দ অনুযায়ী সহজেই কাপড় কিনতে পারছেন।

ঈশ্বরদী টেইলার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার পিন্টু জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাজের চাপ বেশি হলেও সেলাইয়ের মজুরি তেমন বাড়ানো হয়নি। সেই কারণে কারিগরদের বেতনও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

error: Content is protected !!