পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সুগন্ধি চাল, মাংস ও কিছু মাছের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার ঈদের বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল কিনতে কেজিপ্রতি ক্রেতাদের ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কালিজিরা ও চিড়িগুঁড়া চালের দাম কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা সুগন্ধি চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।
সংশ্লিষ্ট বাজার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় সুগন্ধি চালের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া গত এক মাসের ব্যবধানে এই চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।
ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য পোলাও, সেমাই ও মাংস রান্নার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ক্রেতারা বেশি দামে এসব পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে গরুর মাংস বর্তমানে কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও তুলনামূলক কম ছিল।
এছাড়া সোনালি মুরগির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে বর্তমানে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে ইলিশ ও চিংড়ি মাছের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝারি আকারের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। বড় আকারের ইলিশের দাম আরও বেশি। গলদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে পাইকারি বাজারেও দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।
এদিকে কিছু শুকনা পণ্যের দামও বেড়েছে। যেমন গুঁড়া দুধের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অধিকাংশ মসলার দাম স্থিতিশীল থাকলেও কিশমিশ, আলুবোখারা ও পেস্তা বাদামের দাম কিছুটা বেড়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শুক্রবার বা শনিবার ঈদ উদযাপিত হতে পারে। ইতোমধ্যে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় মানুষ ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে বাড়ছে কিছু পণ্যের দামও।