ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অনুমতি ছাড়া ওয়াজ-মাহফিল ও ধর্মীয় প্রচারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আসন্ন ভোটগ্রহণ পর্যন্ত কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া আবশ্যক।
ইসি সূত্র জানায়, আসন্ন ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুনভাবে ওয়াজ-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার লিখিত অনুমতিসাপেক্ষে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব। বিশেষ প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
ইসির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইসলামি বক্তা মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, “শীতকালীন ওয়াজ-মাহফিল দেশের সংস্কৃতির অঙ্গ। হঠাৎ বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। এ ধরনের মাহফিল সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
এছাড়া, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে পাঠানো চিঠিতে ইসি জানিয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নির্বাচনি পরিবেশে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। নির্বাচনি সংলাপ, টকশো বা সাক্ষাৎকার চলাকালীন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা একপক্ষের সুবিধা দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা।