কচুয়া উপজেলার দোয়াটি ইউনিয়নের বাঁচাইয়া গ্রামে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ও কখনো প্রকাশ্যেই ভেকু ও ট্রাক ব্যবহার করে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের জানান, এসব জমিতে প্রতিবছর ধান, শাকসবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। কিন্তু উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অনেক স্থানে জমি অতিরিক্ত নিচু হয়ে যাওয়ায় পানি জমে থাকছে, ফলে চাষাবাদ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমাদের জীবনের একমাত্র অবলম্বন এই জমি। প্রভাবশালীদের ভয়ে আমরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও সাহস পাই না।”
অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হলে তা পুনরুদ্ধার করতে বহু বছর সময় লাগে এবং এটি খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মাটি কাটা বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।