এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতির মাধ্যমে বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ভারত। এই নীতির আওতায় দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোট ও শক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কৌশল অনুসরণ করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, তবে কোনো এক পক্ষের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হওয়া। এই নীতির ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে তিনটি বিষয়—বিদেশে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা, প্রতিবেশী অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় ভারত কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়া গেছে।
তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এখনও কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। কূটনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে এগোতে হবে, যা দেশটির জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও ভারত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন করে কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।