গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি-২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম.এ. মুহিত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে একটি নিরাপদ ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইনশা আল্লাহ, টিকার কোনো ঘাটতি হবে না।”
তিনি আরও জানান, সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত গাজীপুর জেলায় প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকাদান নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক অভিভাবককে শিশুদের নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা প্রদান করেন। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মুঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর জেলা প্রশাসক নূরুল কবির ভূঁইয়া এবং পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন। তাঁরা টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বাংলাদেশের টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতির প্রশংসা করেন।
উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রী মির্জাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাদের দূরে যেতে হচ্ছে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে মির্জাপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ সহজেই স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।
হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
https://www.deshedition.com/