চট্টগ্রামে লেবুর দামে রেকর্ড: লেবুর হালি ২০০ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে না হতেই দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লেবুর বাজারে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন সংকট। মূল্য তালিকা না থাকায় খুচরা বাজারে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। এতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে রোজায় প্রয়োজনীয় এই পণ্য।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম প্রায় চারগুণ বেড়েছে। আগে যেখানে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যেত, সেখানে এখন ছোট লেবুর হালি কিনতেই গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। মাঝারি ও বড় লেবুর ক্ষেত্রে দাম পৌঁছেছে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার ও কাজীর দেউড়ি বাজারে প্রতি পিস লেবুর দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা হাঁকতে দেখা যায়। দরকষাকষির পর অনেক ক্রেতা বাধ্য হয়ে দুটি লেবু কিনেছেন ৯০ টাকায়। বাজারে লেবুর সরবরাহ কম, অনেক জায়গায় তো লেবু নেই বললেই চলে। যে লেবু পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর বড় একটি অংশ অপরিপক্ব এবং রস কম—এমন অভিযোগ ক্রেতাদের।

চকবাজার কাঁচাবাজারের লেবু বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, “পাইকারি বাজারেই এখন লেবু বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই। কিছুদিন আগেও যে দামে এক ডজন লেবু ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেই দামে এক হালিও পাওয়া কঠিন।”

এদিকে সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গল উপজেলাতেও লেবুর দাম চরমে পৌঁছেছে। সেখানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়। জানা গেছে, লেবু ও আনারস উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই অঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে লেবু সরবরাহ করা হলেও চলতি মৌসুমে হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়ত থেকে সাইজভেদে প্রতি পিস লেবু কিনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকায়। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি ও বাজার ব্যয় যোগ করে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করতে গিয়ে হালিপ্রতি দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকায় তুলতে হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থির করে তুলেছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে বাজারে লেবুর ছড়াছড়ি ছিল, সেখানে হঠাৎ করেই তা উধাও হয়ে গেছে। বেশি দামের আশায় অপরিপক্ব লেবু বাজারে আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

error: Content is protected !!