চলতি সপ্তাহে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেবে সরকার

দেশ এডিশন অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

চলতি সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে না এলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,

“পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে, কোনো সংকট নেই। পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য সরকার ১০ হাজার হাই ফ্লো মেশিন সরবরাহ করেছে। তবে যদি ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে বাজারের দাম না কমে, তাহলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে।”

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, ইতিমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২ হাজার ৮০০ আবেদন জমা পড়েছে। তিনি বলেন, “হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে যাওয়া অযৌক্তিক। সরকারের লক্ষ্য বাজারে ভারসাম্য আনা।”

এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৭০ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। দ্রুত এই মূল্যবৃদ্ধিতে বাজার তদারকির অভাব ও সিন্ডিকেটের প্রভাবকেই দায়ী করছেন ক্রেতারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে পেঁয়াজ এসেছে মাত্র ১৩ হাজার টন, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার টন।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) সীমিত পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মইনুল খান বলেন,

“কিছু মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করছে। এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকার ওপরে, অথচ প্রতিবেশী দেশে দাম প্রায় ৩০ টাকা। সীমিত পরিমাণে আমদানির অনুমতি দিলে সরবরাহ বাড়বে, সিন্ডিকেটের প্রভাব কমবে এবং ভোক্তারা যৌক্তিক মূল্যে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।”

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেঁয়াজের উচ্চ দামের সুফল কৃষক নয়, মধ্যস্বত্বভোগীরাই পাচ্ছে। গত অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টনের মধ্যে ১১ লাখ টন নষ্ট হয়েছে সংরক্ষণ সমস্যার কারণে। ফলে বাজারে এসেছে প্রায় ৩৩ লাখ টন পেঁয়াজ। একই সময়ে আমদানি হয়েছিল চার লাখ ৮৩ হাজার টন, যার ৯৯ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে।

error: Content is protected !!