চসিকের প্রকল্পে বিতর্ক: ১৫ বহুতল ভবন ভাঙা নিয়েও ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

দেশ এডিশন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

<strong>চসিকের ১৫ ভবন ধ্বংসের পরিকল্পনা: স্থানীয়দের ক্ষোভ, বিতর্কে প্রকল্প। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পুনরায় ১৫টি বহুতল ভবন ভাঙার পরিকল্পনা করছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পটি মূলত কর্ণফুলী গ্রুপের মালিক আব্দুর রশিদের নতুন শপিংমল নির্মাণের সুবিধার্থে প্রণীত হয়েছে।</strong>

সূত্র জানায়, চকবাজার এলাকার লালচান্দ রোড, কলেজ রোড ও কাপাসগোলা রোডের আশপাশে অবস্থিত বহুতল মার্কেটগুলো ভাঙার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থ খরচ হবে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, জমিটি দেবোত্তর সম্পত্তি হওয়ায় আইনগতভাবে এখানে কোনো অধিগ্রহণ বা লেনদেন সম্ভব নয়।

২০১০ সালে সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী একই এলাকার জন্য ‘কাপাসগোলা-লালচান্দ রোড সম্প্রসারণ ও কলেজ রোড পার্কিং এরিয়া’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। তবে পরবর্তী মেয়র মঞ্জুর আলম প্রকল্পটি অপ্রয়োজনীয় উল্লেখ করে বাতিল করেন। এরপরও স্থানীয় একটি চক্র প্রকল্পটি লুকিয়ে রাখে।

এরপর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কলেজ রোডে পার্কিং এরিয়া তৈরি করে এবং চসিকের প্রস্তাবিত প্রকল্পের অনেকাংশ বাস্তবায়ন করে। চলতি বছর আবারও চসিক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তোড়জোড় শুরু করেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সৈয়দ আবু মোহাম্মদ মামুন বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চসিকের পার্কিং সুবিধা কিছুটা তৈরি হবে, তবে মূল উদ্দেশ্য হলো আব্দুর রশিদের নতুন মার্কেট গড়ে তোলা।”

সুপ্রিম কোর্টও ২০২২ সালে রায় দিয়ে প্রস্তাবিত এলাকার একটি বড় অংশকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করেছে। আদালত এই সম্পত্তির বেনামি বা লোক দেখানো লেনদেনের চেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানান, চলমান মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অবকাঠামোর মালিকরা নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।

স্থানীয়রা এখন বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের কাছে প্রকল্প বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন।

error: Content is protected !!