নোয়াখালী পৌরসভায় চাঁদা না পেয়ে মব সৃষ্টি করে অপহরণ ও পুলিশের হাতে সোপর্দ করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাব সংলগ্ন একটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী নূর হোসেন রিয়াজ (লিয়া)-এর পিতা মো. কালন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলে লিয়া পৌরসভার অনন্তপুর স্বর্ণকারপাড়া এলাকায় অপুর মৎস্য খামারে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ওই এলাকার সন্ত্রাসী রহিম, মাইম ও আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন আওয়ামীপন্থী দুর্বৃত্ত তার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত ১৩ অক্টোবর (সোমবার) মাইজদী বাজারের আলামিন বিস্কুট ফ্যাক্টরির সামনে থেকে তাকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
পরবর্তীতে তাকে স্বর্ণকারপাড়ার জসিম মিয়ার বিল্ডিংয়ে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। পরিবার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা লিয়াকে কুপিয়ে আহত করে। পরে নিজেদের দায় এড়াতে মব সৃষ্টি করে পুলিশ ডেকে উল্টো তাকে মিথ্যা মামলায় সোপর্দ করে দেয়।
সুধারাম মডেল থানা পুলিশ আহত অবস্থায় লিয়াকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। পরবর্তীতে তার নামে একে একে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী কারাগারের জেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পিতা মো. কালন প্রতিকার চেয়ে নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমলি আদালতে (সিআর ১০৯৮/২৫) মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের কাছে ন্যস্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিয়ার পিতা মো. কালন, মা পুস্পা বেগম, স্ত্রী তামান্না, দাদী নুরজাহান বেগম, বোন সাথী, মৌসুমী, ইয়াসমিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাননীয় আদালতের কাছে লিয়ার মুক্তি এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।