চিনাবাদাম কেবল সুস্বাদু স্ন্যাকস হিসেবেই নয়, বরং এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি অসাধারণ খাদ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপত্তি হলেও আজ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে চিনাবাদাম খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। আকৃতিতে ছোট হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা মানবদেহের সার্বিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনাবাদাম আসলে একটি শিমজাতীয় ফসল—ডাল, মটরশুঁটি ও সয়াবিনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এর উচ্চ পুষ্টিগুণ হৃদ্রোগ প্রতিরোধ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। নিয়মিত পরিমাণমতো চিনাবাদাম খেলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ চিনাবাদাম
প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা চিনাবাদামে থাকে প্রায় ৫৬৭ ক্যালরি। এতে রয়েছে প্রায় ২৫.৮ গ্রাম প্রোটিন, যা উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। ফ্যাটের পরিমাণ প্রায় ৪৯.২ গ্রাম হলেও এর অধিকাংশই স্বাস্থ্যকর মনোস্যাচুরেটেড ও পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যেমন ওলিক অ্যাসিড ও লিনোলিক অ্যাসিড।
চিনাবাদামে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম—মাত্র ১৬.১ গ্রাম, যার মধ্যে ৮.৫ গ্রাম ফাইবার। এ কারণে এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। তাছাড়া এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি নিরাপদ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
🔹 হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়
🔹 ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
🔹 রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
🔹 প্রোটিন ও ভিটামিন ই-এর চমৎকার উৎস
🔹 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
চিনাবাদাম সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী একটি খাবার। এটি ভাজা, সিদ্ধ, পেস্ট বা মাখন—যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখলে তা শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।
সংবাদ সংকলন: দেশ এডিশন স্বাস্থ্য বিভাগ