জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র চমক: প্রথম নির্বাচনেই তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভাব

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশ: ১১ ঘন্টা আগে

প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র-তরুণদের উদ্যোগে গঠিত দলটি প্রতিষ্ঠার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত স্বল্প সময়ে সংগঠন গড়ে তুলে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা দেশের রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

প্রায় দেড় যুগ পর অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্যতম শরিক হিসেবে অংশ নেয় এনসিপি। দলটি ৩০টি আসনে প্রার্থী দিলেও ২৭টিতে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং বাকি তিনটিতে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমন্বয়ে নির্বাচন করে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ছয় প্রার্থী জয়ী হয়ে দলকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ করে দেন। দলীয় আসনের হিসাবে এনসিপি এখন দেশের তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি।

জয়ী প্রার্থীরা
শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচিত এনসিপির প্রার্থীরা হলেন—
ঢাকা-১১: আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
রংপুর-৪: সদস্য সচিব আখতার হোসেন
কুমিল্লা-৪: দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ
নোয়াখালী-৬: সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ
কুড়িগ্রাম-2: যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ
নারায়ণগঞ্জ-৪: যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল-আমিন

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এসব আসনে বিজয়ী প্রার্থীরা তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কয়েক হাজার থেকে এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান। বিশেষ করে কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন, যা দলটির জন্য বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অল্প ব্যবধানে পরাজয়, তবুও শক্ত অবস্থান
যেসব আসনে এনসিপি জয় পায়নি, সেখানেও অনেক প্রার্থী অল্প ব্যবধানে হেরেছেন। ঢাকা-৮, দিনাজপুর-৫ ও পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি প্রার্থীরা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এছাড়া ঢাকা-১৮, গাজীপুর-২ ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান তৈরি করে দলটি।

ফলাফল নিয়ে অভিযোগ
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফল ঘোষণার সময় ‘টেম্পারিং’-এর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নির্বাচন-পরবর্তী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, কয়েকটি আসনে ফলাফল নিয়ে অসংলগ্নতা দেখা গেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ফল পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে।

গঠন ও পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে প্রথমে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ গঠিত হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচনের এক মাস আগে দলটি ১১ দলীয় জোটে যুক্ত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্ব, আন্দোলনভিত্তিক রাজনীতি এবং দ্রুত সাংগঠনিক বিস্তারের সমন্বয়ে এনসিপি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। আগামী দিনে সংসদে তাদের ভূমিকা দেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

error: Content is protected !!