ঝালকাঠিতে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ চাষিরা

মোঃ হুমায়ুন কবির:
প্রকাশ: ১৫ minutes ago

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বিশখালী নদী সংলগ্ন প্রায় ৭০ একর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ করে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অকাল বৃষ্টিপাত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বাজারে তরমুজের কম দামের কারণে চাষিদের স্বপ্ন ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার মানকি এলাকার তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শনে দেখা যায়, যৌথ উদ্যোগে ১২ জন কৃষক প্রায় ৭০ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি গাছ থেকে অন্তত একটি ভালো মানের তরমুজ সংগ্রহ করার। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সেই লক্ষ্যের বড় অংশই ব্যাহত হয়েছে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, পৌষ মাসে চারা রোপণের পর প্রায় চার মাস ধরে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গাছ বড় করা হয়। কিন্তু ফুল আসার সময় অতিবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ ফুল ঝরে পড়ে। পরবর্তীতে কিছু গাছে ফল ধরলেও অনেক ফল নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও অংশীদার কৃষক গোলাম কবির বলেন,
“ফল ধরার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তরমুজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামনে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বাজারজাত শুরু করার কথা। প্রায় ৪০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারলে মূলধন উঠে আসবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্তত ২০ লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা. সাহিদা শারমিন আফরোজ জানান, তরমুজ একটি উচ্চ ব্যয়সম্পন্ন ফসল হওয়ায় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে ক্ষতির ঝুঁকি বেশি থাকে। তিনি বলেন,
“এ বছর তরমুজের বাজার মূল্য তুলনামূলক কম। পাশাপাশি চলমান তাপপ্রবাহও ফসলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারি কোনো বিশেষ প্রণোদনা না থাকলেও কৃষকদের নিয়মিত কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, বিশখালী নদীর চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও কম বাজার মূল্যের কারণে সেই সম্ভাবনা এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা না করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কৃষি উদ্যোগে আগ্রহ কমে যেতে পারে।

error: Content is protected !!