রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (সময় উল্লেখিত) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় মোট আসামি আটজন। কারাগারে থাকা চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন—সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি (রমনা) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রমনা জোনের সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক রয়েছেন।
এর আগে রায় ঘোষণার তারিখ ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর রায়ের দিন নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দুই শীর্ষ সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসি এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন—যা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।