ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ভোটগ্রহণ তালিকা ঘিরে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া

দেশ এডিশন | বিশেষ প্রতিবেদন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের খসড়া তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে তালিকাকে কেন্দ্র করে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে তালিকাভুক্ত অনেক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে অব্যাহতির আবেদন করছেন, অন্যদিকে যোগ্য হওয়ার পরও তালিকায় নাম না থাকায় অনেক কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্তির দাবি তুলছেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে কয়েক লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। এই বড় প্রস্তুতি বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে খসড়া প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে বাদ দেওয়া/অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত আবেদন-আপত্তি যাচাই শেষে ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

অব্যাহতির আবেদন বাড়ছে

তালিকা প্রকাশের পরপরই ইসিতে শত শত অব্যাহতির আবেদন জমা পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আবেদনগুলোতে অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা, ছোট শিশুর দেখাশোনা ইত্যাদি কারণ উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব পালনে অনীহার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাদ পড়াদের অভিযোগ ও আগ্রহ

অন্যদিকে অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বলেছেন, যোগ্য ও দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও তাদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ গেছে। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনিক পছন্দ-অপছন্দের কারণে তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তারা মনে করছেন, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাইরে রেখে নতুন বা সীমিত পরিসরের লোক নিয়োগ করা হলে দায়িত্ব ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

ইসির বক্তব্য

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রকৃত ও যৌক্তিক কারণে যারা দায়িত্ব পালনে অক্ষম—তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যথাযথ কারণ ছাড়া দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইসি কর্মকর্তারা আরও বলেন, যারা যোগ্য হওয়ার পরও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন—তাদের তথ্য পুনরায় যাচাই করার সুযোগ রয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সব অভিযোগ ও আবেদন খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী প্যানেল নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

আইনগত বিষয়

সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানালে তা আইনগতভাবে বিবেচিত হতে পারে। এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কেউ বেআইনি প্রভাব বিস্তার বা অনিয়মে জড়ালে প্রযোজ্য আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

error: Content is protected !!