গণভোটকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তাপ বাড়ছে, তখন সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে বিএনপি নিজেই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানালেও, মাঠ পর্যায়ে দলের বহু নেতা-কর্মীর বক্তব্য, পোস্ট ও অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন— বিএনপি কি নিজের অবস্থানই ঠিক রাখতে পারছে না?
তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক— এমন বার্তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রচার করছে। দলের কিছু কেন্দ্রীয় নেতাও একই সুরে কথা বলছেন।
কিন্তু সমস্যা শুরু হচ্ছে এখানেই।
দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে—
কেউ সরাসরি ‘না’ ভোটের পক্ষে মত দিচ্ছেন
কেউ গণভোট প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন
কেউ বলছেন, “দলীয় অবস্থান স্পষ্ট নয়”
কেউ ভোটারদের ‘নিজ দায়িত্বে সিদ্ধান্ত নিতে’ বলছেন
চট্টগ্রামেও এমন বিতর্কিত অবস্থানের কথা আলোচনায় এসেছে, যেখানে এক মহানগর পর্যায়ের বিএনপি নেতা সামাজিক মাধ্যমে গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ‘না’ ভোটের আহ্বান জানিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। বিষয়টি দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়:
“এটা নেতৃত্ব সংকটের ক্লাসিক উদাহরণ।
কেন্দ্র নির্দেশ দিচ্ছে একদিকে, আর মাঠের কর্মীরা চলছে অন্যদিকে।
এভাবে কোনো বড় দল নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে না।”
তাদের মতে, এটি শুধু মতপার্থক্য নয়—
এটি কমান্ড স্ট্রাকচার দুর্বল হয়ে পড়ার স্পষ্ট লক্ষণ।
দল কি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, নাকি নেতাদের ব্যক্তিগত মত?
মাঠ পর্যায়ের নেতারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানছেন না কেন?
দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙলে ব্যবস্থা কোথায়?
এই প্রশ্নগুলো এখন বিএনপির ভেতরেই ঘুরছে।
বিরোধী রাজনৈতিক মহলের দাবি—
বিএনপি ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি করতে গিয়ে নিজেই বিভ্রান্ত
স্পষ্ট নীতি না থাকায় কর্মীরা দ্বিধায়
একেক এলাকায় একেক বক্তব্য দিয়ে দল নিজেদের অবস্থান দুর্বল করছে
তাদের ভাষায়,
“যে দল নিজের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার কথা কীভাবে বলে?”