ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ দায়িত্ব দিলে দেশে চাঁদাবাজি ও ঘুষের সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে “এক ইঞ্চি জমির ওপরও কেউ চাঁদাবাজির সাহস করবে না” এবং কোনো দপ্তরে ঘুষ লেনদেন চলবে না।
শনিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর জেলা ও মহানগর শাখা।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শ্রমজীবী ও কৃষক—কেউই এর বাইরে নন বলে দাবি করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, তাঁর দল রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের মুখে পড়েছে এবং বহু নেতা-কর্মী প্রাণহানি ও মামলার শিকার হয়েছেন। তবে দল হিসেবে প্রতিশোধ নয়, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চান বলে জানান তিনি।
অর্থ পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ জনগণের সম্পদ—তা ফেরত আনতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিলেট অঞ্চলের অবকাঠামোগত সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি। গ্যাস, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙন সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন, প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা এবং নদী ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। চা শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারি দায়িত্ব বাড়ানো এবং নদী সুরমা-কুশিয়ারার প্রবাহ পুনরুদ্ধারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজেকে সিলেটের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের “মালিক” নয়, “সেবক” হিসেবে কাজ করতে চান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন শাহজাহান আলী ও জয়নাল আবেদীন। এতে বিভিন্ন সহযোগী রাজনৈতিক দলের নেতারাও বক্তব্য দেন।