এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও মিলছে না এক কেজি ইলিশ

স্টাফ রিপোর্টার | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এক মণ (প্রায় ৪২ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি করেও ১ কেজি ইলিশ মাছ কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।

উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ছোট আকারের ইলিশ মাছ (প্রতি কেজিতে ২-৩টি) ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও ১ কেজি ইলিশ কিনতে পারছেন না। তবে একই টাকায় ১ কেজি গরুর মাংস (৭৫০-৮৫০ টাকা) কেনা সম্ভব হচ্ছে।

বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবাদ এরই মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ হেক্টরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ২০০ হেক্টর এবং বীজ উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পেঁয়াজের ভালো ফলন হতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় আগাম পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে।

উৎপাদন খরচ বেড়েছে

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করলেও উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ছে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা।

তাদের অভিযোগ, সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ঋণ সহজ করা, বীজ ও সারের দাম কমানো এবং পেঁয়াজ চাষে সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংরক্ষণ সুবিধার অভাব

কৃষকদের মতে, মৌসুমের শেষ দিকে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও তখন অধিকাংশ পণ্য মজুতদারদের হাতে চলে যায়, ফলে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন না। এছাড়া পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় অনেক পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

তারা বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পেতেন।

ব্যবসায়ীদের মতামত

স্থানীয় এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় একসঙ্গে পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে আমদানিও বেশি থাকায় দাম কমেছে। তবে কিছুদিন পর দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৮০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণাগার নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

error: Content is protected !!