নতুন শুল্কঝুঁকি: ট্রাম্পের বাণিজ্য তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে, যেখানে বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য নীতি ও উৎপাদন কাঠামো পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য ‘অন্যায্য বাণিজ্য সুবিধা’ খুঁজে বের করাই এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (USTR) স্থানীয় সময় বুধবার এই তদন্ত কার্যক্রমের ঘোষণা দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিদেশি পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হতে পারে।

কোন আইনের আওতায় তদন্ত

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী এই অনুসন্ধান পরিচালিত হবে। যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক বা অযৌক্তিক বাণিজ্য নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে।

যে দেশগুলো তালিকায় রয়েছে

তদন্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা এই তালিকার বাইরে রয়েছে।

কেন এই তদন্ত

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, কিছু দেশ অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়াচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় শিল্পের জন্য চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়টি যাচাই করতেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে।

আদালতের রায়ের প্রভাব

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের একটি শুল্ক সিদ্ধান্তকে সীমিত করে দেয়। আদালত জানায়, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট এককভাবে ব্যাপক শুল্কারোপ করতে পারেন না—এ ধরনের সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

এই রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি পথ খুঁজতে নতুন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য কতটা ঝুঁকি

বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, তালিকায় নাম আসা কিছুটা উদ্বেগের হলেও তাৎক্ষণিক বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। কারণ শ্রম অধিকার, ভর্তুকি ও মেধাস্বত্বসহ বেশ কিছু বিষয়ে ইতোমধ্যে উন্নতি হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত নিজেদের শিল্প সুরক্ষার কৌশল হিসেবে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। কারণ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানত তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়, যা মার্কিন উৎপাদকরা তুলনামূলকভাবে কম উৎপাদন করে।

আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসায় সরকার ও রপ্তানিকারকদের সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য শুল্কঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করতে হবে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্ত শেষ হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কিছু দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসতে পারে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

  • #deshedition
  • #দেশএডিশন
  • error: Content is protected !!