চট্টগ্রামে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটও তীব্র হয়ে উঠেছে। বর্তমানে নগরীর তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। গরমের এই পরিস্থিতিতে ঘন ঘন লোডশেডিং জনজীবনে চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটছে। কোথাও কোথাও একটানা আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় পানি সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে, ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মোট ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৯টি বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। চট্টগ্রামে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি স্থানীয়ভাবে ব্যবহার না হয়ে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বণ্টন হওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
দ্রুত বেড়েছে লোডশেডিং
চলতি মাসের শুরুতে তুলনামূলক কম থাকলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে। একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ
এদিকে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় পড়াশোনা ও প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে পানির ঘাটতি এবং কিছু কেন্দ্রের কারিগরি সমস্যার কারণে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এমনকি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
গরম বাড়লে বাড়বে সংকট
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। কিন্তু উৎপাদন একই হারে না বাড়লে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।