ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে একাধিক পেশাদার শুটার ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগাযোগ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে ফয়সালের সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা নানক এবং আসাদুজ্জামানের যোগাযোগ ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ডিবি সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার আদালতপাড়া ও মিরপুরে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত শুটারদের সঙ্গেও ফয়সালের যোগাযোগ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হামলার নেপথ্যের পরিকল্পনা, অর্থদাতা ও সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
ডিবি আরও জানায়, হাদির ওপর হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি হোন্ডা হর্নেট মোটরসাইকেল, একটি হেলমেট এবং একটি ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়। পরে একটি ম্যানহোলের ভেতর থেকে আরেকটি ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়। সিটিটিসির একটি দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নম্বর প্লেট পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
মোটরসাইকেলটির মালিকানা যাচাই করে পুলিশ জানতে পারে, এটি একাধিকবার হাতবদল হয়েছে। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী মো. কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে মোটরসাইকেলটি কেনা হয়।
ডিবি জানিয়েছে, ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ ও বহনে কারা সহযোগিতা করেছে, তা চিহ্নিত করতে ফয়সালের বন্ধু ও সহযোগীদের তালিকা তৈরি করে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে র্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে ফয়সালের বাবা-মাকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ফয়সালের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে না পারলেও তার রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
হত্যাচেষ্টা মামলায় ফয়সালকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে মাইক্রোবাস ভাড়া দেওয়া নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে একই মামলায় ফয়সালের স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক ও মোটরসাইকেলের মালিকসহ একাধিক আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর এ হামলা চালানো হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনি প্রচার শেষে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।