নালিতাবাড়ী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। শেরপুরের মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে শনিবার ও রোববার সকালেও অফিসগামী যাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষ বাস না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েন।

সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার এক ‘জুলাই যোদ্ধা’ কে হেনস্তার ঘটনায় শুরু হওয়া দ্বন্দ্বের জেরে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের দূরপাল্লার বাস চলাচল দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। ইউনাইটেড ও সৌখিন পরিবহনের অন্তত ৩০০টি গাড়ি বর্তমানে চলাচল করছে না। শ্রমিক নেতাদের সিদ্ধান্তে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও জামালপুরের সব দূরপাল্লার বাস বন্ধ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবহন শ্রমিকদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হেনস্তার ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী (এনসিপি) ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি শুরু হয়। শনিবার বিকেলে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ও ইউনাইটেড পরিবহনের ১৬টি বাস বন্ধ রাখার আশ্বাসে মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড থেকে জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপির কর্মীরা তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। ঢাকার বাইপাস এলাকা থেকে পরিবহন শ্রমিকদের অবরোধও তুলে নেওয়া হয়।

তবে শনিবার সন্ধ্যায় শ্রমিক নেতাদের নির্দেশে পুনরায় বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা আসে। শ্রমিকদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক অরুণের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বাস চলাচল শুরু হবে না।

ঢাকাগামী যাত্রী আবু তাহের বলেন,

“গতকাল থেকে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু আন্দোলনের কারণে পারছি না। হুটহাট করে এমন বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই, বাসস্ট্যান্ড অন্তত রাজনীতিমুক্ত থাকুক।”

ইউনাইটেড পরিবহনের চালকের সহকারী সোহেল রানা বলেন,

“বাস বন্ধ থাকলে আমাদের রোজগারও ব্যাহত হয়। একটি ঘটনার কারণে ১৬টি বাস বন্ধ করা ও জব্দ করার দাবি অযৌক্তিক।”

হেনস্তার শিকার আবু রায়হান জানান, প্রশাসন ও শ্রমিকনেতারা তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। তবে বাস চলাচল বন্ধ থাকলে আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। তিনি মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডকে রাজনীতিমুক্ত করারও দাবি জানান।

ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন,

“এনসিপির কয়েকজন বিষয়টি বড় করে দেখাচ্ছে। তারা প্রায়ই এমন ঝামেলা সৃষ্টি করে অনৈতিক সুবিধা নিতে চায়।”

আলমগীর মাহমুদ আলম আরও বলেন, গতকাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিনুল হক শামীম পরিচালিত ১৬টি বাস বন্ধ এবং একটি মনিটরিং টিম গঠনের সিদ্ধান্তে বাস চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকার শ্রমিকনেতারা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শ্রমিক অরুণের মুক্তির দাবিতে অনড় থাকায় ইউনাইটেড ও সৌখিন পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য দ্রুত সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • #দেশএডিশন
  • error: Content is protected !!