আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের প্রার্থীরা। আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হওয়ার পর এখন ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, দায়িত্ব বণ্টন এবং নির্বাচনি সমন্বয় কার্যক্রমে জোর দিচ্ছেন তারা।
জোটের নেতাদের সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ করণীয় নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে সারা দেশের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’কে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ও সমর্থনের ভিত্তিতে তারা আসন্ন ভোটে ভালো ফলাফলের আশা করছেন। তবে নির্বাচনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। তাদের অভিযোগ, কিছু বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সব ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিকার মিলছে না।
জোটগত অংশগ্রহণের বিষয়ে জানা গেছে, দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার-সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি শরিক দলগুলোর প্রার্থীরাও বিভিন্ন আসনে জোটের সমর্থন নিয়ে লড়ছেন। কয়েকটি আসনে একাধিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ব্যাপক গণসংযোগ সম্পন্ন করেছেন। এখন ভোটার স্লিপ বিতরণ, কেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়সহ নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রচার কার্যক্রম মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং সাধারণ মানুষের সাড়া পেয়েছেন তারা। তবে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রচারণায় ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল পর্যন্ত মাঠে থাকার কথা জানান তিনি।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নির্বাচনি ওয়েবসাইটও চালু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটে ইশতেহার, প্রার্থীদের তথ্য, জোটের পরিচিতি, প্রচার সামগ্রী ও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট সংযুক্ত রয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, শেষ মুহূর্তের সাংগঠনিক তৎপরতা, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয়—এই তিন বিষয়ই এখন প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।