পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে রাতের আঁধারে বশির শরীফ (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে বদরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত বশির ওই এলাকার মোঃ আব্দুল শরীফের ছয় সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত বশির বাড়িতে না ফেরায় বড় ভাই জাকির শরীফ তাকে ফোন করেন। ফোন রিসিভ না হওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন বশির হয়তো কোনো কাজে বাইরে আছেন। কিন্তু শনিবার ভোরে বড় ভাই ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বাড়ির দরজার ঠিক পাশেই বশিরের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। স্বজনরা ছুটে এসে দেখেন বশিরের মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং পুরো শরীর রক্তে ভেজা।
নিহত বশির শরীফের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বশির অত্যন্ত ভদ্র ও ধার্মিক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করতেন। বদরপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন,
“ছেলেটি খুব ভালো ও নামাজি ছিল। এমন শান্ত স্বভাবের ছেলেকে এভাবে হত্যা করা মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান:
“আমরা মরদেহের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি। প্রাথমিক আলামতে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।