পিরোজপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে আটজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান।
পিরোজপুর-২ আসন
পিরোজপুর-২ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৯ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ২৩৮টি। এ সংখ্যার আট ভাগের এক ভাগ দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৭৯ ভোট। এই পরিমাণ ভোটের কম পাওয়ায় সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন—
বিএনপির বিদ্রোহী (ঘোড়া প্রতীক) স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহামুদ হোসেন — ১৬,২১৯ ভোট
জেপি (সাইকেল প্রতীক) প্রার্থী মাহিবুল হোসেন — ৪,৭০৫ ভোট
ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা প্রতীক) প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ — ৬,৬৯৭ ভোট
ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ফয়সাল খান — ৩৯০ ভোট
গণঅধিকার পরিষদ (ট্রাক প্রতীক) প্রার্থী আনিসুর রহমান মুন্না — ১৪৫ ভোট
পিরোজপুর-৩ আসন
পিরোজপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৭টি। এ সংখ্যার আট ভাগের এক ভাগ ১৭ হাজার ১২৩ ভোটের কম পাওয়ায় ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন—
জাসদ (মোটরগাড়ি প্রতীক) প্রার্থী করিম সিকদার — ২১২ ভোট
ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী তৌহিদুজ্জামান — ২৩১ ভোট
জাতীয় পার্টি (লাঙল প্রতীক) প্রার্থী মাশরেকুল আযম (রবি) — ১৬৯ ভোট
নির্বাচিত প্রার্থীরা
পিরোজপুরের তিনটি আসনের মধ্যে পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মাত্র দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে পিরোজপুর-২ ও পিরোজপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর ও রুহুল আমীন দুলাল বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।