দুর্বল পাঁচ ব্যাংক ফের যাচ্ছে আগের মালিকদের নিয়ন্ত্রণে

দেশ এডিশন ডেস্ক:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬ দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এই আইনের মাধ্যমে একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের আগের মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা আগে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে নিষিদ্ধ ছিল। নতুন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, আগের মালিকরা চাইলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য তাদের সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সব আর্থিক সহায়তা ফেরত দেওয়া, মূলধন ঘাটতি পূরণ, আমানতকারীদের দায় পরিশোধ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। মালিকানা ফিরে পেতে হলে প্রথমে সরকারের বিনিয়োগের ৭.৫০ শতাংশ জমা দিতে হবে এবং বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।

নতুন আইনে পুনর্গঠিত ব্যাংকগুলোকে দুই বছর তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক, এরপর একটি বিশেষ কমিটি মূল্যায়ন করবে শর্ত পূরণ হয়েছে কি না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সামান্য অর্থ জমা দিয়ে শুধু অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এতে আমানতকারীদের অর্থ নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ব্যাংক ধ্বংসের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার মতো এবং এতে জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন অভিযোগ করেন, এই বিলের ফলে আমানতকারীদের সুরক্ষা দুর্বল হবে এবং অতীতে রাষ্ট্রীয় অর্থ দিয়ে ব্যাংক রক্ষার যে প্রক্রিয়া ছিল তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংক খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং বাস্তবতা বিবেচনায় বাজারভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ব্যাংক সচল রাখা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, এই আইনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

এর আগে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। এসব ব্যাংকে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে, যেখানে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ২.২৫ লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। নতুন আইনের ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা আনবে, নাকি আবারও ঝুঁকি বাড়াবে।

error: Content is protected !!