বাংলাদেশে জনপ্রিয় একটি ফল পেয়ারা—যা শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দেশের নানা স্থানে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে পেয়ারা চাষ। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে পেয়ারা এখন হয়ে উঠছে কৃষকদের নতুন ভরসা।
কৃষি বিভাগ জানায়, বর্তমানে দেশের প্রায় সব জেলাতেই পেয়ারা চাষ হচ্ছে। তবে ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল, রাজশাহী, নাটোর ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে পেয়ারা উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি—সঠিক পরিচর্যা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত হলে পেয়ারা চাষ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
চাষিরা জানান, তুলনামূলক কম জমিতেই লাভজনকভাবে পেয়ারা চাষ করা যায়। প্রাকৃতিকভাবে রোগবালাইও কম। একবার গাছ রোপণ করলে টানা ১৫–২০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।
চট্টগ্রামের এক পেয়ারা চাষি বলেন,
“আমরা আগে ধান আর শাকসবজি চাষ করতাম, এখন পেয়ারা চাষে অনেক ভালো আয় হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও অনলাইনে বিক্রি করে লাভ বাড়ানো যাচ্ছে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে যদি আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো যায়, তাহলে পেয়ারা হতে পারে একটি রপ্তানিযোগ্য অর্থকরী ফসল।
কৃষি কর্মকর্তারা আরও বলেন, পেয়ারা ভিটামিন ‘সি’, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের ভালো উৎস। নিয়মিত পেয়ারা খেলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ত্বক সুন্দর থাকে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়—
কম খরচে বেশি লাভ, সহজ পরিচর্যা ও উচ্চ পুষ্টিগুণে পেয়ারা চাষ এখন কৃষির এক সম্ভাবনাময় অধ্যায়।