ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শুরু ঐতিহ্যবাহী বিজু–বিষু

রুপম চাকমা, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলায় মাইনি নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব ‘বিজু’ ও ‘বিষু’। তিন দিনব্যাপী এ উৎসবকে ঘিরে এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ তানজীম শুভ আনুষ্ঠানিকভাবে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন। মাইনি নদীর তীরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চাকমা, ত্রিপুরা, বাঙালিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

ভোর থেকেই নানা বয়সী মানুষ নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে দলবদ্ধভাবে ফুল হাতে নদীর তীরে জড়ো হন। পরে তারা ‘জলবুদ্ধ’ ও ‘মা গঙ্গাদেবী’র উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করেন। এ সময় অতীত বছরের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং নতুন বছরে সকলের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

ফুল নিবেদন করতে আসা ২নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা (জ্ঞান) বলেন, “পুরনো বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেই আমরা জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করি। সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।”

বিজু উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু করেছি। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছর যেন আরও সুখে-শান্তিতে কাটাতে পারি—এই কামনাই আমাদের।”

স্থানীয়রা জানান, বিজু (চাকমা) ও বিষু (তঞ্চঙ্গ্যা) উৎসব পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

উৎসব ঘিরে দিঘীনালার মাইনি নদীর তীর পরিণত হয়েছে এক বর্ণিল মিলনমেলায়, যেখানে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতার বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে।

error: Content is protected !!