বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠিত হয়। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে। নিবন্ধন ও কার্যক্রম সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী প্রথম বৈঠক সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এবার তা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন সংসদের একজন সিনিয়র সদস্যের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশনের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর একজন সিনিয়র সদস্যকে অস্থায়ীভাবে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। স্পিকার নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং পরে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অধিবেশন শুরুর আগেই সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে সংসদ কার্যক্রমে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার ব্যাপারে উভয় পক্ষ থেকেই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানানো হয়েছে।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সংসদকে একটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে তারা কাজ করবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হবে।
দীর্ঘ সময় পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় শুরু হওয়া এই সংসদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংসদ গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।