আঞ্চলিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়তে থাকা সময় পাকিস্তান নতুন এক বহুপাক্ষিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, বাংলাদেশ–পাকিস্তান–চীনকে কেন্দ্র করে যে ত্রিদেশীয় সহযোগিতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটিকে আরও বড় আকারে বিস্তৃত করা সম্ভব।
বুধবার ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো উদ্যোগে বিশ্বাস করি না যেখানে নিজের লাভ নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্য দেশের ক্ষতি হয়। পাকিস্তান সবসময় সংঘাতের বদলে সহযোগিতার নীতি অনুসরণ করে।”
ইসহাক দারের বক্তব্যে পরিষ্কার, দক্ষিণ এশিয়ার অচলাবস্থায় থাকা সার্কের বিপরীতে একটি বিকল্প আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা পাকিস্তান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ভারত–পাকিস্তান বৈরিতা দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যক্রমকে দুর্বল করে রেখেছে।
এর আগে চলতি বছরের জুনে চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের কূটনীতিকরা একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর জানানো হয়—এই উদ্যোগ ‘তৃতীয় কোনো দেশকে কেন্দ্র করে নয়’।
তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এই আলোচনা নতুন মাত্রা দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত–পাকিস্তানের সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে মে মাসে স্বল্প সময়ের সীমান্ত সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের গণআন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ঢাকা–নয়াদিল্লি সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থান আরও দূরত্ব তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের নতুন জোটের প্রস্তাব দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে একটি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এখন মূল প্রশ্ন—বাংলাদেশ এই উদ্যোগে কতটা আগ্রহ দেখাবে এবং ভবিষ্যতে এটি কি সার্কের কার্যকর বিকল্প হতে পারে?