রাজধানীর রেস্টুরেন্ট, পার্টি ও কমিউনিটি সেন্টারে এখন নতুন ট্রেন্ড—‘ডরি ফিশ ফ্রাই’। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সামুদ্রিক মাছ হিসেবে এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু ভয়াবহ তথ্য হলো—এই তথাকথিত ‘ডরি ফিশ’-এর বেশিরভাগই আসলে কেমিক্যালে প্রক্রিয়াজাত পাঙ্গাস মাছ!
দেশ এডিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঢাকার কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি মাছের মাথা, কাঁটা ও চামড়া আলাদা করে স্তুপ করে রাখছেন। প্রথমে বোঝার উপায় ছিল না এটি কোন মাছ। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়—ওগুলো পাঙ্গাস মাছ, যেগুলো বিশেষ প্রক্রিয়ায় ‘ডরি ফিশ’-এ রূপান্তর করা হচ্ছে।
দোকানের কর্মচারীরা জানান, “আমরা শুধু কাটাকাটি আর প্যাকেট করে দিই। প্রতিদিন সকালেই অর্ডার আসে গুলশান, বনানী, মহাখালী ও ধানমন্ডির হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে।”
দোকানটির নাম ‘ফিশ বাংলা মৎস্যবিদ্যান’। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কেজি মাছ কেটে পাঠানো হয় শহরের বিভিন্ন অভিজাত রেস্টুরেন্টে। দোকান মালিক দাবি করেন, তিনি পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে মাছ বিক্রি করেন। তবে দেশ এডিশনের অনুসন্ধানী দল ক্রেতা সেজে গিয়ে দেখেছে, কেমিক্যাল মিশিয়ে ওই মাছগুলোকে সামুদ্রিক ডরির মতো রং ও স্বাদ দেওয়া হচ্ছে।
একজন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী বিস্মিত হয়ে বলেন, “এই বাজারে পাঙ্গাস বিক্রি হইতেছে ডরি ফিশ কইয়া। আমি জীবনেও আসল ডরি দেখি নাই।”
এমন প্রতারণা শুধু সাধারণ ভোক্তাদের ঠকানোই নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খাদ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—এই ধরনের কেমিক্যাল-প্রক্রিয়াজাত মাছ দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভারসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।
প্রশ্ন রয়ে যায়—রেস্টুরেন্টে গিয়ে আপনি যে “ডরি ফিশ ফ্রাই” খাচ্ছেন, সেটি আসলে সামুদ্রিক ডরি, নাকি বিষাক্ত কেমিক্যালে ভেজানো পাঙ্গাস?
দেশ এডিশন অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে…