ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে ভোর পোহালেই। উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়ার সাতটি আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের মধ্যে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে শুধু দলীয় প্রতীক নয়—উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাই বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।
জেলার সাতটি আসনে মোট ভোটার প্রায় ৩০ লাখের কাছাকাছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকলেও মাঠের লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতকেই ঘিরে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে জোট রাজনীতির কারণে যে ব্যবধান তৈরি হতো, এবার আলাদা লড়াইয়ের ফলে অনেক আসনেই হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা দেখা যেতে পারে।
আসনভিত্তিক প্রধান ইস্যু
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি–সোনাতলা): নদীভাঙন ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ): উন্নয়ন কাজের বাস্তব হিসাব ও কর্মসংস্থান
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া–আদমদীঘি): রেল যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও ক্রীড়া অবকাঠামো
বগুড়া-৪, ৫ ও ৭ (শেরপুর–ধুনট–গাবতলী অঞ্চল): কৃষিভিত্তিক শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপার্ক
বগুড়া-৬ (সদর): যানজট নিরসন, ড্রেনেজ সমস্যা ও নগর ব্যবস্থাপনা
বগুড়া-৬ আসনটি ভিআইপি আসন হিসেবে আলোচনায়, কারণ এখানে প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও নগর সমস্যাকে বড় ইস্যু হিসেবে তুলছেন।
তরুণ ভোটারদের বড় অংশ কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়—জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার বিস্তার জরুরি। তৃতীয় লিঙ্গের এক ভোটার জানান, সম্মানজনক জীবন ও কাজের সুযোগ চান তারা।
বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন বঞ্চনার পর বগুড়ায় নতুন করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে। কৃষি সহায়তা ও পরিবারভিত্তিক সুবিধা কর্মসূচির কথাও তারা উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে জামায়াত নেতারা বিভাগীয় মর্যাদা, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।
কিছু স্থানে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে অভিযোগ থাকলেও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। একটি পক্ষ এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর ভোট হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ যেমন আছে, তেমনি শঙ্কাও রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বগুড়া ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার প্রতিটি আসনে সমানভাবে কাজ করতে হচ্ছে দলটিকে। অন্যদিকে জামায়াতও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সক্রিয়তা বাড়িয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, বগুড়ার সাতটি আসনেই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটার উপস্থিতি। ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকাই এখন সবার প্রত্যাশা।