দেশ এডিশন ডিজিটাল রিপোর্ট :
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে এক উচ্চস্তরের বৈঠকে পরামর্শ দিয়েছে, যে ব্যাংক খাত থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর জন্য অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনি ও সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করা উচিত। গতকাল অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের প্রধান ব্যাংকগুলোর এমডি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপদেষ্টা ফারহানুল গনি চৌধুরী, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্বাহী পরিচালক মফিজুর রহমান খান চৌধুরী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
বৈঠকে উঠে, শেখ পরিবার ঘনিষ্ঠ কিছু শিল্পগোষ্ঠী দেশের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগ। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর কাছে নেয়া ঋণের বড় অংশ বিদেশে চলে যাওয়ায় তা ফেরানো অত্যন্ত জটিল। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক পরামর্শ দিয়েছে, যারা এই ধরনের অর্থ ফেরত আনার অভিজ্ঞতা রাখে — যেমন আন্তর্জাতিক আইন ও সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক এবং দক্ষতা কাজে লাগানো। বৈঠকে সাতটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের নাম তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে: দ্য স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (STAR), ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (ISICCC), যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ), এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি (ICAR)।
বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো অগ্রিম অর্থ লেনদেন করা যাবে না। অর্থ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সফল হলে কমিশন ভিত্তিতে পারিশ্রমিক প্রদান করা হবে। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে কয়েকটি নেতৃত্বদানকারী ব্যাংক, এবং অন্যান্য ব্যাংক সমন্বয় করবে। ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খান সাংবাদিকদের জানান, “বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক আইনি ও সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হলে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “আমাদের ব্যাংক খাত দুর্বল হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ ঋণের টাকা ভিন্ন খাতে ব্যবহার হওয়া। এ অবস্থার আরও জটিলতা হলো অনেক ঋণ দেশের বাইরে চলে গেছে। যদিও ফেরানো কিছুটা কষ্টসাধ্য, তবে বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যাদের ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট চিহ্নিত করে তা পুনরুদ্ধারের সফল অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ব্যাংকগুলোকে সরবরাহ করেছে। প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো তাদের কাছে পাচারকৃত সম্পদের পরিমাণ জানাবে। প্রতিষ্ঠান কাজের আগ্রহ প্রকাশ করলে ব্যাংক তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করবে, যেখানে শুধুমাত্র পুনরুদ্ধারকৃত অর্থের একটি অংশ কমিশন হিসেবে দেয়া হবে।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরানোর চেষ্টা ত্বরান্বিত হবে। এটি কেবল ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে না, বরং অবৈধ অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে আইনগত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথও সুগম করবে।