সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন, “বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের মানুষ পরিবর্তন ও ন্যায্য অধিকার চায়। একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা আমার প্রথম অঙ্গীকার। জনগণের সেবক—এই অঞ্চলের মানুষের খাদিম হিসেবেই কাজ করতে চাই।”
রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিয়ানীবাজার পৌরশহরের আজির মার্কেটে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, তার রাজনৈতিক লক্ষ্য খুব স্পষ্ট—গণতন্ত্র, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করা তার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য।
জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি দেশের অগ্রগতির প্রধান বাধা। শূন্য সহনশীলতার নীতি নিয়ে এগোলে এ সমস্যাগুলো কমে আসবে। তরুণদের কর্মসংস্থান, দিকনির্দেশনা ও সচেতনতা বাড়ানো হবে।”
ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সবার জন্য সমান হবে। ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাস; রাষ্ট্রের কাজ মানুষের অধিকার রক্ষা করা।” তিনি মন্তব্য করেন, “জান্নাতের টিকেট দেওয়ার দাবি করা মুসলমান হিসেবে বলা যায় না। এসব দিয়ে সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়। সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি সিলেট-৬ আসনের তিনটি বড় উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেন—
১. বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ সড়কের মানোন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ
২. স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন
৩. পানির সংকট সমাধানে নতুন গভীর নলকূপ ও পানি শোধনাগার স্থাপন
এছাড়া গ্যাস-বিদ্যুৎ সেবা উন্নয়নের মাধ্যমে লোডশেডিং কমানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন তিনি।
আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি সচল করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এমরান আহমদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী স্থান, জলাশয় ও প্রবাসী সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
শিক্ষা খাতে সরকারি স্কুল-কলেজে অবকাঠামো সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং আধুনিক হাসপাতাল ও মাতৃসদন শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন তিনি। জরুরি সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্কও গড়ে তোলার কথা জানান।
সভা শেষে তিনি ঘোষণা দেন, “নির্বাচিত হলে জবাবদিহিমূলক জনপরিষদ গঠন করব—যেখানে জনগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি অংশ নিতে পারবে।”
বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল, জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস ছবুর, সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ, জেলা বিএনপির সহ ত্রাণ সম্পাদক এনাম আহমদ, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনসহ যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও জাসাসের নেতৃবৃন্দ।