বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, ছয় মাসে কমেছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা

দেশ এডিশন | মো. রাকিব হোসেন, বেনাপোল
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমদানি কমে যাওয়া, বিভিন্ন পণ্যে নিষেধাজ্ঞা, এবং পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্কফাঁকি—এসব কারণে রাজস্ব ঘাটতি বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেনাপোল কাস্টমস হাউসের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। তবে এই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো, বর্তমানে তা কমে ২৫০ ট্রাকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি শ্রমিক ও পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে ২৫৬ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং ৮০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর বাণিজ্য নিরাপত্তা দুর্বল হওয়ায় কিছু অসাধু চক্র পাচার ও শুল্কফাঁকির সুযোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি পণ্যে আমদানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্দরে আমদানি কার্যক্রম কমে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে।

আমদানিকারক হাবিবুর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

মাসভিত্তিক রাজস্ব চিত্র

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান—

  • জুলাই: লক্ষ্যমাত্রা ৫০৮ কোটি, আদায় ৫৪৪.০৪ কোটি

  • আগস্ট: লক্ষ্যমাত্রা ৪৯৩ কোটি, আদায় ৪৪৭.৯৩ কোটি

  • সেপ্টেম্বর: লক্ষ্যমাত্রা ৬০১ কোটি, আদায় ৫১৩.৫৮ কোটি

  • অক্টোবর: লক্ষ্যমাত্রা ৬৪৫ কোটি, আদায় ৪৪৯.২৮ কোটি

  • নভেম্বর: লক্ষ্যমাত্রা ৭৫৫ কোটি, আদায় ৫৬৪.৪১ কোটি

  • ডিসেম্বর: লক্ষ্যমাত্রা ১১৩১ কোটি, আদায় ৬০০.৮১ কোটি

তিনি জানান, শুল্কফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে জরিমানা ও কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ছয় মাসে ঘাটতি হলেও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা আছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

error: Content is protected !!