বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মচারী নিয়োগে নতুন বিধান: দায়িত্বে জেলা প্রশাসক নেতৃত্বাধীন কমিটি 

আতাউর রহমান
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

আতাউর রহমান:

বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে কর্মচারী নিয়োগে বড় পরিবর্তন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিওভুক্ত পদে নিয়োগে আর ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির কোনো সদস্যের ভূমিকা থাকবে না। এর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি সুপারিশ কমিটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। রবিবার রাতে জারি করা “বেসরকারি স্কুল-কলেজের প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য পদে অনুসরণীয় নির্দেশমালা”য় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। এতদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিওভুক্ত কর্মচারী পদে নিয়োগ কমিটি গঠিত হতো ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির নেতৃত্বে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ছিল। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এবার জেলা প্রশাসক নেতৃত্বাধীন কমিটি গঠন করা হলো। নতুন কমিটির কাঠামোয় সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক। সদস্য হিসেবে থাকবেন জেলার সবচেয়ে পুরোনো সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বা তার প্রতিনিধি, শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি (পরিদর্শকের নিচে নয়), যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বা সহকারী পরিচালক। আর সদস্যসচিব হবেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ কমিটি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রস্তুত এবং নিয়োগের সুপারিশ করবে। প্রয়োজনে মৌখিক পরীক্ষার জন্য একাধিক বোর্ডও গঠন করতে পারবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, কমিটির সুপারিশ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে প্রার্থীকে নিয়োগপত্র পাঠাতে হবে। সময়মতো নিয়োগপত্র না পাঠালে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এতে প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমপিও স্থগিতসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিও বাতিল করা হতে পারে। শূন্যপদ নিরূপণের জন্য প্রতি বছর ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধান উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসে তথ্য পাঠাবেন। জেলা শিক্ষা অফিসার ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তথ্য পাঠাবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে। এরপর অধিদপ্তর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলাভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা চূড়ান্ত করবে। শূন্যপদ নির্ধারণ থেকে নিয়োগপত্র ইস্যু পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের নথি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা এসেছে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে। স্কুল-কলেজ ও কারিগরিতে ১০০ নম্বর বিষয়ভিত্তিক এবং বাকি ১০০ নম্বর বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর। অন্যদিকে মাদ্রাসায় ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৪০ নম্বর থাকবে বিষয়ভিত্তিক, আর বাকি ৬০ নম্বর হবে সাধারণ বিষয়ে। নতুন এ নির্দেশনার ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি জারি করা পরিপত্রের সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করছে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগ আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।

error: Content is protected !!