ভুল ট্রেনে উঠলে—সামনের স্টেশনে নেমে যাও

উপসম্পাদকীয় | লেখক – Π আতাউর রহমান
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

মানুষ মাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। জীবনের তাড়াহুড়ায়, সিদ্ধান্তের চাপে, কিংবা পরিস্থিতির ঘোরে আমরা অনেক সময়ই ভুল ট্রেনে উঠে বসি—সেটা হতে পারে ভুল সম্পর্ক, ভুল পেশা, ভুল প্রতিশ্রুতি, ভুল বন্ধুত্ব, ভুল পথ বা ভুল রাজনৈতিক অবস্থানও। কিন্তু ভুল ট্রেনে উঠে পড়াটা যত বড় ভুলই হোক, সেই ভুলকে লালন করা তার থেকেও বড় বিপর্যয়।

ট্রেনের মতো জীবনও সামনে এগোয়। ভুল পথে উঠে পড়লে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নয়—সামনের স্টেশনে নেমে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ প্রতিটি স্টেশনই একটি সুযোগ, একটি নতুন শুরু, একটি পুনর্গঠনের দ্বার। ভুলকে স্বীকার করা দোষ নয়; বরং ভুলকে স্বীকার করতে না পারাটাই প্রকৃত অগ্রগতির বাধা। আমাদের সমাজে ভুল মানে লজ্জা—এই ধারণা বহু প্রতিভা, বহু সম্ভাবনা এবং বহু হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। অথচ ভুল হলো শেখার প্রথম পাঠ, আর ফিরে আসা হলো সাহসের প্রথম চালিকা।

ভুল ট্রেনে চড়লে যে গন্তব্যে পৌঁছাতে চাই, সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়—এই সত্যটি স্বীকার করা জরুরি। জীবনের অনেক চাপ, প্রতিশ্রুতি বা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কেউ কেউ ভুল পথেই এগিয়ে যেতে থাকে, মনে করে ‘এখন আর ফিরতে পারব না’। কিন্তু কোন পথেই ‘ফিরে আসা দেরি’ নয়, যদি সামনে স্টেশন থাকে, থাকে নেমে নতুন করে পথচলার সুযোগ।

সমাজ, পরিবার, কর্মক্ষেত্র—সব জায়গাতেই মানুষকে এমন পরিবেশ দিতে হবে যেখানে ভুল স্বীকার, ভুল সংশোধন বা পথ বদলানোকে দুর্বলতা নয়, বরং প্রজ্ঞা হিসেবে দেখা হবে। আমাদের শিক্ষা, রাজনীতি বা পেশাগত সংস্কৃতিতেও ফিরে আসার সংস্কৃতি গড়ে উঠুক—যেখানে কেউ ভুল সিদ্ধান্তে যাননি বলে লজ্জিত নয়, বরং সংশোধন করেছেন বলে সম্মানিত হবেন।

জীবন একমুখী ট্র্যাক নয়; এটি বহু স্টেশন আর বহু সম্ভাবনার সমন্বয়। ভুল ট্রেনে চড়েছি বলে সব শেষ নয়—সামনের স্টেশনেই হয়তো ঠিক পথের শুরু। তাই জীবনে কখনোই থমকে যেও না, হতাশ হয়ো না। ভুল ট্রেনে উঠে পড়লে, সাহস সঞ্চয় করো—আর পরের স্টেশনেই নেমে যাও। সেখানেই নতুন যাত্রা অপেক্ষা করছে।

error: Content is protected !!