মনোনয়ন ঘিরে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কঠোর বিএনপি

দেশ এডিশন, রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

ঘনিয়ে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মনোনয়ন ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের হাইকমান্ড স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—যারা দলের সুনাম নষ্ট করবে, আধিপত্য বিস্তার বা বিদ্রোহী মনোভাব প্রদর্শন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাই এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা বর্তমানে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য নিয়মিতভাবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতারা। নির্বাচন সামনে রেখে ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে বলা হচ্ছে—দল যাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, সবাইকে তার পক্ষে কাজ করতে হবে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গুলশান কার্যালয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এসব বৈঠকে প্রার্থীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বিএনপি প্রার্থীদের সিগন্যাল’ সংক্রান্ত খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। তারা জানিয়েছে, এসব খবরের কোনো অফিসিয়াল অনুমোদন নেই; শুধু মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সচল রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় নেতাদের।

তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডাকার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। কিছু মনোনয়নপ্রত্যাশী জানিয়েছেন, সাংগঠনিক সম্পাদকের ‘পছন্দের না’ হলে অনেককেই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে দলের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা কিছু নেতার কাছে পৌঁছানো হচ্ছে না।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গুলশানে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে—“দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বা জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের কোনোভাবেই মনোনয়ন দেওয়া হবে না।”

দলীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও অভ্যন্তরীণ বিভেদের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব কার্যক্রমের তথ্য ও প্রতিবেদন প্রতিদিনই দলীয় দপ্তরে জমা পড়ছে।

বিএনপির হাইকমান্ড স্পষ্ট করেছে—আগামী নির্বাচনে কেবল জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

error: Content is protected !!