জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) চেয়ারম্যানসহ সব সদস্য পদত্যাগ করেছেন। সোমবার দেওয়া এক খোলাচিঠিতে তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং কমিশনের ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পদত্যাগকারী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিস। খোলাচিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনকালে ভুক্তভোগীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এই অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, “সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা আমাদের বারবার জানতে চাইছেন— এখন তাদের কী হবে? সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই খোলাচিঠি দিচ্ছি।” তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্যই তারা এই অবস্থান নিয়েছেন।
আইনি পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ
খোলাচিঠিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়—
● সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের ব্যাখ্যা
● অধ্যাদেশ বাতিলের পেছনে সরকারের আপত্তি
● ভবিষ্যৎ আইনের মান ও কাঠামো নিয়ে প্রস্তাবনা
বিদায়ী সদস্যদের দাবি, যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে কমিশনের স্বাধীনতা কমে যাবে এবং এটি পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন হয়ে পড়তে পারে।
২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়ার শঙ্কা
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে প্রণীত আইনটি শুরু থেকেই দুর্বল ছিল এবং ভুক্তভোগীদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে পারেনি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করলেও, তা বাতিল হওয়ায় আবার পুরোনো কাঠামো ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তথ্য উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন
বিদায়ী কমিশনাররা দাবি করেছেন, সংসদে কিছু তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, গুমের শাস্তি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে— যেখানে প্রকৃত অধ্যাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। এছাড়া, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত সুরক্ষা আইনের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিল পাস ও কার্যকারিতা
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিদায়ী কমিশনের সদস্যরা মনে করছেন, নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, দেশের সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা—আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।