ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রয়াত আলী আজগরের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও ইসালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলী আজগর স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান হোটেল ইমেক্স ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, আলী আজগর জীবদ্দশায় সবসময় জনগণের পাশে ছিলেন এবং তাদের সুখ-দুঃখে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আলী আজগর বেঁচে থাকলে আজও জনগণের প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারতেন। অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি সাহসিকতার সাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারতেন।”
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে আলী আজগর ছিলেন একজন জননেতা, যিনি মানুষের সাথে গভীর সম্পৃক্ততা তৈরি করতে পেরেছিলেন। তাঁর কর্ম ও অবদান মানুষের মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, “আলী আজগর ছিলেন একজন নিরলস দেশপ্রেমিক। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
প্রয়াতের ছেলে ব্যারিস্টার আ.স.ম খালিদ ইকবাল নিটোল বলেন, তাঁর বাবা আমৃত্যু হালুয়াঘাটের মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি বলেন, “এলাকার মানুষই ছিল বাবার সবচেয়ে আপন। আমরা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
আলী আজগরের রাজনৈতিক জীবন ছিল বহুমাত্রিক। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৮৭ ও ২০০৯ সালে দুইবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি হালুয়াঘাট আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও কালাপাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং বড়বন মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শেষে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী, মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।