মুজিবের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিও বাদ গেল পাঠ্যবই থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ১ মাস আগে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিমার্জন আনা হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে বিতরণের জন্য প্রস্তুত বইগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ব্যবহৃত ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়েছে জুলাই বিপ্লব, বাকশাল প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার পলায়নের ঘটনাসহ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রকাশিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবই পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ৭ মার্চের ভাষণের বর্ণনায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ব্যবহৃত ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি একাধিক স্থানে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের বইয়ে যেখানে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখা ছিল, সেখানে এবার শুধু ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পাঠ্যবইয়ের কিছু অংশে এখনো ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি থেকে যাওয়ায় বিষয়টি ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত—তা নিশ্চিত করা যায়নি। এনসিটিবির একটি সূত্র জানায়, উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দ সংশোধন করা হয়নি এমন জায়গা থাকলে তা পরবর্তীতে পর্যালোচনার আওতায় আনা হতে পারে।

নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার পর পাঠ্যবইয়ে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতিহাস ও শাসনতান্ত্রিক বিষয়গুলো নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পরিমার্জিত পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও উপাধিগত শব্দ পরিহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা, এরশাদের নয় বছরের স্বৈরশাসন এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার শাসনামলের ঘটনাবলিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির ঐতিহাসিক উৎস নিয়েও পাঠ্যবই সংশোধনের পেছনে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমানের বহু আগেই সমাজ সংস্কারক ও ধর্মপ্রচারক মুন্সী মেহেরুল্লাহ ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভ করেছিলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পিএইচডি গবেষণায় এবং বিভিন্ন সাহিত্য সংকলনে মুন্সী মেহেরুল্লাহকেই বাংলার প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিটিবি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সংশোধিত পাঠ্যবই ছাপা শেষ হয়েছে এবং নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে অনলাইন সংস্করণ উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বছর শুরুর আগেই বইগুলো পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

error: Content is protected !!