ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্তকরণ প্রশ্নে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ: মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত

দেশ এডিশন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

দেশ এডিশন ডেস্ক :

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং ১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করার নির্দেশনা সংবলিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালত জানতে চেয়েছেন, কেন পরিপত্রটি বৈষম্যমূলক হিসেবে ঘোষণা করা হবে না।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ পরিপত্রটি জারি করে, যা শুরু থেকেই শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে বৈষম্যমূলক ও বিতর্কিত হিসেবে সমালোচিত হয়।

সূত্রে জানা যায়, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাস্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪–এ চলতি বছরের ২৮ ও ৩১ আগস্ট ঢাকাসহ নয়টি শিক্ষা বোর্ড সংশোধনী আনে।

সংশোধিত প্রবিধান অনুযায়ী— ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন শুধুমাত্র সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবম গ্রেড বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অথবা অবসরপ্রাপ্ত হলে পঞ্চম গ্রেড বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অর্থাৎ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া কেউ হতে পারবেন না।

এই বিধানকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে এমরান হোসেনসহ চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি গত রবিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

রিটে আইনজীবী ফখরুল ইসলাম আদালতে বলেন, “দেশে ৩০ হাজারের বেশি বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন বিধানমালা বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করে।”

আইনজীবী আরও জানান, প্রবিধানমালার ১৩(১) এবং ৬৪(৩) ধারার বৈধতা নিয়েই মূলত রিটটি দায়ের করা হয়।

শিক্ষা মহলে এই রায়ের পর স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, আদালতের এই স্থগিতাদেশ বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও ন্যায্য পরিচালনার পথ সুগম করবে।

error: Content is protected !!