ইসলাম ধর্মে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তির আয় যতই সীমিত হোক, সে যদি হালাল উপার্জন থেকে এবং আন্তরিক হৃদয়ে দান করে, তবে আল্লাহ তাআলার কাছে সে দান অমূল্য হয়ে যায়। ছোট্ট দানও বরকতের মাধ্যমে দাতার জীবনে বড় পুরস্কার হয়ে ফিরে আসে—এমনই বার্তা পাওয়া যায় সহিহ হাদিসের আলোকে।
সম্প্রতি আলোচিত একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ দানও আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করেন, আর আল্লাহ কেবল পবিত্র সম্পদই কবুল করেন। গ্রহণের পর আল্লাহ নিজেই সেই দানকে বৃদ্ধি করতে থাকেন, যেমন কেউ অল্প বয়সের ঘোড়াশাবক লালন-পালন করে। ফলে সামান্য দানও একসময় পাহাড়সম সওয়াব হিসেবে পরিণত হয়।
হাদিস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো
১. দানের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি
ইসলাম শেখায়, দান-সদকা কখনোই আত্মগৌরব, প্রদর্শন কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা যাবে না। নিষ্কলুষ নিয়তই দানের আসল মূল্য বাড়িয়ে তোলে।
২. হালাল উপার্জন অপরিহার্য
হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অপবিত্র বা হারাম উপার্জন থেকে করা দান Allah গ্রহণ করেন না। হারাম সম্পদ মানুষের হৃদয়ে অশান্তি, লোভ, আত্মম্ভরিতা, অপ্রাপ্তির কষ্টসহ নানা নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে।
৩. আল্লাহর গুণাবলিতে সঠিক ঈমান
হাদিসে আল্লাহর ‘ডান হাত’—এ ধরনের গুণাবলি উল্লেখ থাকলেও ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়, আল্লাহর কোনো সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায় না। তাঁর গুণাবলি যেমন তিনি বর্ণনা করেছেন, তেমনভাবেই বিশ্বাস করতে হবে; কোনো বিকৃতি বা সাদৃশ্য আরোপ ছাড়া। কোরআনে বলা হয়েছে—“তাঁর মতো কেউ নেই; তিনিই সবকিছু শ্রবণ ও দর্শনকারী” (সূরা শূরা, আয়াত: ১১)।
সব শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দান-সদকার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। সমাজে সংহতি, সহানুভূতি ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠায় দান এক শক্তিশালী মাধ্যম। বিশেষজ্ঞদের মতে, দানের সংস্কৃতি শক্তিশালী হলে সমাজে হিংসা, বৈষম্য ও দারিদ্র্য কমে আসে।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, দান শুধু সামাজিক দায়িত্বই নয়—এটি মানুষের আত্মিক উত্তরণেরও পথ। সামান্য দানও আল্লাহ তাআলার কাছে পাহাড়সম সওয়াব হিসেবে বৃদ্ধি পায়; যা দাতার জন্য দুনিয়া ও آخিরাতে কল্যাণের দুয়ার খুলে দেয়।