রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, বাজারে চাপ

দেশ এডিশন ডেস্ক:
প্রকাশ: ১৯ ঘন্টা আগে

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পণ্যের চাহিদা রমজান মাসে বেশি থাকে—সেসব পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বাজার তদারকির দুর্বলতাকেও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর একাধিক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও মজুতদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে থাকেন। তবে ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি—বিশেষ করে বন্দরকেন্দ্রিক জটিলতা—দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

খেজুর ও কাঁচামরিচে বেশি চাপ
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খেজুরের দাম। গত বছরের তুলনায় জনপ্রিয় জাহিদি খেজুরের কেজিতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য প্রিমিয়াম খেজুর যেমন মাবরুম, মরিয়ম ও মেডজুলও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া কলা, শসা ও লেবুর দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

ফলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি
আমদানি করা ফলের মধ্যে আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙুর ও আনারের দামে কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে। দেশি ফলের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাজারভেদে আপেল ২৬০ থেকে ৪৫০ টাকা, কমলা ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা এবং আঙুর ৫২০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কিছু পণ্যে স্বস্তি
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় ছোলা, চিনি ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা কম রয়েছে। তাদের দাবি, সার্বিকভাবে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে খেজুর আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। তবুও বাজারে খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা চড়া রয়েছে।

ব্যবসায়ী ও এফবিসিসিআই’র অবস্থান

রমজান উপলক্ষে সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে
দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ ও ডালসহ প্রধান নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই বলে তারা মনে করছেন।

একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে চাঁদাবাজি ও অবৈধ আদায় রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে। ভোক্তাদেরও প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কিনে বাজারে কৃত্রিম চাপ না তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রমজানকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

error: Content is protected !!