রমজানে অধিক মুনাফা নয়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সতর্কতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ১৯ ঘন্টা আগে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসকে ব্যবসায় অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ হিসেবে না দেখে আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

গতকাল বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় অঙ্গীকার ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি।

মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ক্ষতিগ্রস্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অনিয়ম ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রমজানে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ
রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ ও সাহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে অপচয় রোধ ও কৃচ্ছ্রতা সাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকাও নাগরিক দায়িত্বের অংশ।

এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত
সরকারি সুবিধা কমাতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি বা প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না। তিনি এটিকে ন্যায়পরায়ণতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

যানজট নিরসনে রেলব্যবস্থার উন্নয়ন
রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোর যানজট নিরসনে সারা দেশে রেল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু খাতের কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সহজ, সুলভ ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনা
দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থী ও তরুণদের মেধা বিকাশে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

সবার জন্য সমান অধিকার
তিনি বলেন, যারা সরকারকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সব নাগরিকের অধিকার সমান। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে।

বক্তব্যের শেষে দেশবাসীর সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর কাছে ইতিবাচক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তৌফিক প্রার্থনা করেন।

error: Content is protected !!