রমজানে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ফল আমদানি, তবু কমছে না দাম

দেশ এডিশন ডেস্ক | চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

চলতি রমজান মাসে দেশি ফলের মৌসুম না থাকায় আমদানি করা ফলের ওপরই নির্ভরশীল বাজার। রোজাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ফল আমদানি করলেও খুচরা বাজারে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজিতে গড়ে অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ফল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর এ সময়ে দেশে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার টন ফল আমদানি হয়েছিল। চলতি বছর একই সময়ে আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার টনে। পরিমাণ বাড়লেও বাজারে প্রতিদিনই কেজিতে ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিপুল আমদানি
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে শত শত কোটি টাকার আপেল, আঙুর, মাল্টা, কমলা ও খেজুর আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু খেজুরের আমদানিমূল্যই প্রায় ৯০০ কোটির বেশি। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, খেজুর ছাড়া অন্যান্য ফল আমদানিতে সর্বোচ্চ ১৩৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়। সম্প্রতি প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটির বেশি মূল্যের ফল খালাস হয়েছে এবং সেখান থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে আরও বেশি। রমজান মাসের পুরো হিসাব করলে আমদানির পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

ফলমন্ডিতে সরগরম বেচাকেনা
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি ফলের বাজার চট্টগ্রামের ফলমন্ডি ঘুরে দেখা গেছে, গুদাম ও দোকানভর্তি আমদানি করা ফল। বন্দরের দিক থেকে একের পর এক ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এসে ফল নামাচ্ছে, আবার বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর জন্য পণ্য তোলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক, রেফার (ফ্রিজিং) কনটেইনার ভাড়া এবং দ্রুত খালাসের অতিরিক্ত খরচ মিলিয়ে পরিবহন ব্যয় অনেক বেশি। পচনশীল পণ্য হওয়ায় ঝুঁকিও বেশি থাকে। এসব কারণেই বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি বলে দাবি তাদের।

শুল্ক নীতির প্রভাব
ফলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা করায় উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, রমজানের মতো বিশেষ সময়ে শুল্ক কমানো হলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতেন। ইতোমধ্যে খেজুরের ক্ষেত্রে শুল্কে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বন্দরে এক হাজারের বেশি বিশেষায়িত রেফার কনটেইনার রয়েছে, যার অধিকাংশেই ফল রয়েছে। এসব পণ্য ধাপে ধাপে বাজারে এলে দামে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া রোজা শেষে চাহিদা কমলে বাজারও স্থিতিশীল হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

সিন্ডিকেটের অভিযোগ
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রতিবছর রমজানের শুরু, মাঝামাঝি এবং ঈদের আগে—এই তিন ধাপে ফলের দাম বাড়ানো হয়। সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তাদের দাবি, বন্দরে ফলভর্তি কনটেইনার থাকলেও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না দিয়ে ধাপে ধাপে ছাড়ার প্রবণতা রয়েছে। কার্যকর বাজার মনিটরিং না হলে আমদানি করা ফল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

error: Content is protected !!