‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সামনে রেখে আতঙ্কে নগরবাসী, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানী ঢাকায় সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত আটটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং চারটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, শহরজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দিনব্যাপী রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, মৌচাক, শেরেবাংলা নগর, খিলগাঁও, বাড্ডা, শাহজাদপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “বিশেষ কোনো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, “এগুলো আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও, সব দিকেই নজর রাখা হচ্ছে।” ধানমন্ডি থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা জানান, মোটরসাইকেলে আসা দুজন করে ব্যক্তি ককটেল ছোড়ে পালিয়ে যায়। “সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে,” বলেন তিনি। মিরপুর থানার ওসি সাজ্জাদ রোমনও জানান, ঘটনাস্থলের ফুটেজে দুজনকে শনাক্ত করা গেছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চারটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
ভোরে বাড্ডা ও শাহজাদপুরে দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বহনকারী বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রাত ১টার দিকে যাত্রাবাড়ীতে রাইদা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানান, দ্রুত অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে কেউ আহত হননি।
আগামী বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাস টার্মিনাল ও মোড়ে পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী